বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে তারা প্রতিদিন ভয়, লজ্জা আর অস্বীকৃতির সঙ্গে লড়াই করে। আমি একজন বাইসেক্সুয়াল নারী হিসেবে জানি, ভালোবাসা কখনো অপরাধ হতে পারে না, অথচ এই সমাজে আমাদের ভালোবাসাকেই অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। পরিবার, কর্মক্ষেত্র, এমনকি বন্ধুমহল—সবখানেই সমকামীদের অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, যেন তারা মানুষ নয়, বরং কোনো ভুল। এই অমানবিক বাস্তবতা শুধু তাদের নয়, আমাদের সবার মানবিকতাকে চ্যালেঞ
বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় সমলিঙ্গের সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আইন শুধু একটি ধারা নয়, এটি সমকামীদের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে। আমি যখন ভাবি, আমার ভালোবাসা যদি অপরাধ হয়, তখন মনে হয়-এই সমাজ আসলে ভালোবাসাকে নয়, পুরুষতন্ত্রকে রক্ষা করছে।
ধর্মীয় ও সামাজিক রক্ষণশীলতার কারণে সমকামীদের প্রতি ঘৃণা প্রবল। অনেকেই মনে করেন সমকামিতা “পশ্চিমা সংস্কৃতি” থেকে এসেছে। অথচ সত্য হলো—ভালোবাসা কোনো সংস্কৃতির নয়, এটি মানুষের। কিন্তু এই অজ্ঞতা ও ভুল ধারণার কারণে সমকামীদের পরিবার থেকে বহিষ্কার করা হয়, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হয়, জনসমাজে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
আমি একজন বাইসেক্সুয়াল নারী হিসাবে জানি, সমাজ শুধু নারীকে নয়, ভিন্ন যৌনতা ও পরিচয়কেও দমন করে। লেসবিয়ান নারীরা প্রায়ই পরিবার থেকে বহিষ্কৃত হন। ট্রান্স নারীরা জনসমাজে শারীরিক ও মৌখিক সহিংসতার শিকার হন। আর বাইসেক্সুয়াল নারীরা “অস্থির” বা “অশ্লীল” বলে অপমানিত হন। এই বৈষম্য ও নির্যাতন পুরুষতন্ত্রেরই অংশ, যা নারীর শরীর ও পরিচয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।
কিন্তু তবুও আশার আলো আছে। ঢাকায় কয়েকবার প্রাইড ইভেন্ট হয়েছে, যেখানে যৌন বৈচিত্র্যের মানুষরা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। যদিও এসব অনুষ্ঠান অনেক সময় হুমকি ও ভয়ভীতি সত্ত্বেও অনুষ্ঠিত হয়, তবুও এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে সমকামী সম্প্রদায় ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
আমার কাছে সমকামীদের সংগ্রাম আসলে নারীর সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। কারণ পুরুষতন্ত্র শুধু নারীকে নয়, ভিন্ন যৌনতা ও পরিচয়কেও দমন করে। বাংলাদেশে সমকামীদের অবস্থা আমাদের সমাজের মানবিকতার পরীক্ষা। যদি আমরা সত্যিই ন্যায়বিচার চাই, তবে আমাদের সমকামীদের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।