সমকামী এবং LGBT সম্প্রদায়ের জন্য ইসলাম যে অবস্থান নিয়েছে তাতে সম্পূর্ণ ভাবে ইসলামকে জালিয়াতের ধর্ম বলেই আমাদের মতো LGBT সম্প্রদায় মনে প্রাণে বিশ্বাস করে। বিজ্ঞানের কোন ব্যাখ্যাই ইসলাম ধর্ম স্বীকার করে না। বিজ্ঞান যে প্রমাণ করেছে সমকামিতা কোন রোগ নয়  বরং এটা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, ইসলাম সরাসরি বিজ্ঞানকে অস্বীকার করেছে। কারন ইসলাম এক বর্বর এবং মৌলবাদী ধর্ম ছাড়া আর কিছুই না। ইসলামের আলেমরা যেভাবে ইসলামের আলোকে সমকামিতার শাস্তির ব্যাখ্যা দিয়েছে তার বেশ কিছু অমানবিক এবং ভয়াবহ শাস্তির কথা নিয়ে লিকছি। এবং বাংলাদেশে সমকামিতার নামে অনার কিলিং হয় ইসলামের মান রক্ষায়। এবং এই মৃত্যুর তথ্য গোপন করে সরকার।

ইসলামী আইন অনুসারে, যদি কোনো পুরুষ সমকামিতা বা পায়ুসঙ্গম করেছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে শাস্তিস্বরূপ তাকে এবং তারসমকামী সঙ্গীকে হত্যা করতে হবে। এ ব্যাপারে সাহাবীগণ ও আলেমগণ একমত। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, “কিছু আলেম মনে করেনযে, উভয় সমকামীকেই পাথর মেরে হত্যা করা উচিত, তারা বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত।” এই মতকে সমর্থন করেছেন ইমাম মালিক,ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এবং ইসহাক। অন্যদিকে, তাবেঈদ আলেমদের মধ্যে হাসান আল-বাসরী, ইবরাহীম নাখাই,আত্তা ইবনে আবু রাবাহ এবং অন্যান্যরা বলেছেন যে, সমকামীদের শাস্তি ব্যভিচারের শাস্তির সমান। সুফিয়ান আল-থাওরী এবংকুফার অধিবাসীরাও একই মত পোষণ করতেন (তিরমিযী, হিজরি/১৪৫৬)।

ফুযাইল ইবনে ইয়াদ বলেন, “যদি কোনো সমকামী আকাশের প্রতিটি পানি দিয়ে গোসলও করে, তবে সে আল্লাহর সাথে অপবিত্রঅবস্থায় সাক্ষাৎ করবে।” (যাম্মুল লিওয়াত, দূরী, পৃ. ১৪২; ইসলাম ওয়েব, ফতোয়া নং ২৪৩৬৭৩)। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, “যেহেতু সমকামিতার পাপ সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক, তাই দুনিয়া ও পরকালে এর শাস্তিও হবে সবচেয়ে কঠোর।” (আল-জাওয়াবুল কাফি, পৃ. ১/১৬৮)

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন, “সাহাবীগণ উভয় প্রকার সমকামীকে হত্যা করার ব্যাপারে একমত। তাঁদের মধ্যে কেউকেউ বলেছেন যে, তাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করা উচিত। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, সমকামীকে এলাকার সর্বোচ্চ প্রাসাদের ছাদথেকে উপুড় করে ফেলে দেওয়া উচিত। এরপর তাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করা উচিত। অপরদিকে, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেনযে, তাদেরকে পুড়িয়ে হত্যা করা উচিত। তবে, সালাফগণ ও ফিকহবিদদের অধিকাংশের মতে, উভয় প্রকার সমকামীকেই পাথর মেরেহত্যা করা উচিত, তারা বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত।” (মাজমু’ আল-ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১১/৫৪৩; জা’দ আল-মা’আদ, ৫/৪০; আযওয়া’ আল-বায়ান, ৩/৩৫)।

ইমাম মালিক সমকামীদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি সমকামীকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা ফরজ করেছেন, সে বিবাহিত হোকবা অবিবাহিত। এই বিষয়ে এটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত (ইগাচাতুল লাহফান, ২/১৪৪ পৃ.)। ইবনে আবিদিন বলেছেন যে, ব্যভিচারীরমতোই সমকামীদের উপর হদ্দ (শাস্তি) প্রয়োগ করা ফরজ। সাহাবীগণ তাদের উপর হদ্দ আরোপ করার ব্যাপারে একমত ছিলেন। তবে, কেউ কেউ ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যেমন আবু বকর সিদ্দিক, যিনি বলেছেন যে তাকে পুড়িয়ে মারা উচিত (হাশিয়াত ইবনে আবিদিন,৪/৯১; আদ-দুররুল মুখতার, ৪/২৭ পৃ.)।

এই প্রসঙ্গে প্রমাণস্বরূপ নিম্নলিখিত হাদিসগুলো উল্লেখযোগ্য: ক- ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন:

“তোমরা যাকে লুত সম্প্রদায়ের কৃতকর্ম করতে দেখবে, তাকে এবং যার প্রতি তা করা হয়েছে, উভয়কেই হত্যা করো।” (আবু দাউদ, হজ্জ/৪৪৬২; তিরমিযী, হজ্জ/১৪৫৬; ইরওয়াউল গালিল, হজ্জ/২৩৫০; হাসান সহীহ) খ- আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহররাসূল সম্প্রদায়ের অনুরূপ অপরাধকারী এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন: “ওপরের ও নিচের উভয় দিকে পাথর ছুঁড়ে মারো, উভয় দিকেএকসাথে পাথর ছুঁড়ে মারো।”

(ইবনে মাজাহ, হজ্জ ২৫৬২, ২০৯২; মুসনাদ আবু ইয়া’আলা, হজ্জ ৬৬৮৭; শারহ মুশকিলিল আছার, হজ্জ ৩৮৩৩, হাসান সনদ) গ- ইবনে আব্বাস বলেন, “অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে, তাদেরকে সমকামিতার শাস্তির জন্য গ্রহণ করা হয়।” তিনি বলেন: “যদি কোনোঅবিবাহিত ব্যক্তিকে সমকামিতা বা পায়ু মৈথুনে লিপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হবে।”

(আবু দাউদ, হজ্জ ৪৪৬৩, সহীহ সনদ) ঘ- আবু বকর, আলী আবদুল্লাহ ইবনে এবং হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক (এর মতোব্যক্তিত্বরা সমকামীদের পুড়িয়ে হত্যা করতেন। উদাহরণস্বরূপ, মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির বলেন, “খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ একবারআবু বকর কে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানান যে, তিনি একটি আরব শহরে এমন এক ব্যক্তিকে ধরেছেন, যে নারীদের মতো যৌনউত্তেজনা প্রশমনের জন্য ব্যবহৃত হতো।

আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাহাবীদের একত্রিত করে এই বিষয়ে তাদের পরামর্শ চাইলেন। আলী ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।তিনি বললেন, ‘এটা এমন এক পাপ যা পৃথিবীতে কেবল একটি জাতিই করেছে। আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি কী শাস্তি দিয়েছেন, তাআপনারা অবশ্যই জানেন। সুতরাং আমার অভিমত হলো, তাকে আগুনে পুড়িয়ে মারা উচিত।’ উপস্থিত সকল সাহাবীও এই মতকেসমর্থন করলেন। অতঃপর আবু বকর তাকে খুঁটিতে বেঁধে পুড়িয়ে মারার আদেশ দিলেন।” (বায়হাকী, শু’আবুল ঈমান, হাজ্জ/৫৩৮৯; আল-মুহাল্লা) ১১/৩৮৩; আল-জাওয়াবুল কাফি, ইবনুল কাইয়্যিম, পৃ. ১৬৯; আত-তারগির ওয়াত-তারহিব, হজ্জ/৩৫৭২; জামি’উলউলুম, ১/৩৮৭ পৃ.)। তবে, সরকারের ইসলাম-বিরোধী আইনের কারণে সমকামীরা পার্থিব শাস্তি থেকে রেহাই পেলেও পরকালে তাদেরজন্য এক ভয়াবহ শাস্তি অপেক্ষা করছে।

একজন সমকামী মানুষের অপরাধ কি? সে জন্মগ্রহণ করেই  সমকামী হয়ে। এই জন্মের উপর তার কোন কন্ট্রোল থাকে না। তাহলে সমকামী হবার অপরাধে একজন মানুষকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলা, জবাই করে হত্যা করা, উঁচু দালান থেকে নিছে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তারপর আধামরা শরীরটাকে আবার পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলা, এই রকম অবিচার যদি কোরানে আর ইসলামের ধর্মগ্রন্থ বইগুলোতে থাকে তাহলে আমরা এই কোন পৃথিবীতে বাস করছি? কিভাবে একজন নিরপরাধ ব্যাক্তিকে এই ভয়ংকর মৃত্যু দেবার কথা ধর্ম গ্রন্থে বলা থাকে? এই ইসলাম কি করে শান্তির ধর্ম হতে পারে? ইসলামের এই বর্বরতা নিয়ে কথা বললেই কট্টর মৌলবাদীদের মাথা নষ্ট হয়ে যায়। মেতে ওঠে জিহাদি হত্যা কাণ্ডে। যুগের পর  যুগ এই নৃশংস বর্বর হত্যাকাণ্ড চলছে ধর্মের সম্মান রক্ষার নামে। যে ধর্ম শান্তির কথা বলে কিন্তু অশান্তির মুলে হল এই কোরানের নৃশংস আয়াত এবং ইসলাম।

সমকামিতাকে ইসলাম হারাম করেছে তাই আমি ইসলামকেই  হারাম করেছি, কোরানকেই হারাম ঘোষণা করেছি। কারন কোরান আমাকে স্বীকৃতি দেয় না। তাই কোরানকেই জীবন থেকে ছেঁটে ফেলে দিয়েছি। যে ধর্ম আমার উভকামিতা স্বীকার করে না, আমি সেই ধর্মই স্বীকার করি না। আমার উভকামিতা আমার গর্ব।  তাই অন্যায় ভাবে মেরে ফেলা আমি মানি না। সমকামিতার জন্য মৃত্যু আমার এবং আমাদের LGBT সম্প্রদায়ের  কাম্য নয়। প্রতিবাদ চলবেই।